দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, উপকূলীয় নিরাপত্তা, নদীপথ নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কোস্ট গার্ডকে আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা দিয়ে আরও কার্যকর বাহিনীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
তার মতে, জনবল বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে গেলে কোস্ট গার্ড আরও শক্তিশালী ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কোস্ট গার্ড বর্তমানে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, জলদস্যু দমন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধার কার্যক্রমে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা জীবন রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক বলেন, নদীপথে চোরাচালান ও দস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ড ধারাবাহিকভাবে সফলতা দেখাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায়ও বাহিনীটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, গত এক বছরে নদীপথে কয়েকশ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান জব্দ করা হয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোস্ট গার্ডে এখনও জনবল সংকট রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করা গেলে নদীপথ, মৎস্য সম্পদ এবং সামগ্রিক উপকূলীয় নিরাপত্তা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিকায়ন ও জনবল বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে দেশের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় নিরাপত্তায় আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।