ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো—জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে মাঠপর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে নেয় একাধিক উদ্যোগ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বগুড়ার শিবগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মাঠপর্যায়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় জোরদার করে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এনেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় পরিষদ ও অন্যান্য দপ্তরের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে সারা দেশে উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তার ভূমিকা দৃশ্যমান।
তবে এরই মধ্যে একটি মহল থেকে অনুমোদনহীন ও অপ্রতিষ্ঠিত কিছু সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাথে কথা বললে তিনি জানান—
“অনুমোদনহীন সংবাদমাধ্যম নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। সাংবাদিকরা সমাজের আয়না, আমি তাদেরকে সম্মান করি। এসব মিথ্যাচার করে কোনো লাভ নেই। এখন দেশের মানুষ অনেক সচেতন। তারা কাজ চায়, উন্নয়ন চায়। এসব অপপ্রচার নিয়ে মানুষ ভাবে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার এই দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা দেশের উন্নয়ন ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে। আর সেই পথচলায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।