বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাঁর প্রবর্তিত ‘উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি’ শুধু তৎকালীন সংকট উত্তরণেই নয়, বরং আধুনিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে ‘বাস্কেট কেস’ থেকে ‘সাকসেস কেস’-এ পরিণত করেছিলেন। তিনি নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে এনে মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন এবং জনগণের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও কর্মক্ষমতাকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন।
তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্প ও বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপনে তাঁর দূরদর্শী নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধাসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি দেশের পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যান।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, নারী ও শিশু অধিকার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা বিস্তার এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর উদ্যোগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান স্মরণ করে ড. মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। তাঁর সময়েই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে। একইসঙ্গে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের ধারণা বাস্তবায়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শন তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর পরও তাঁর অবদান দেশের মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ড. মঈন খান বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজের কিংবা পরিবারের জন্য কিছু রেখে যাননি। তিনি ছিলেন জনগণের নেতা, দেশের কল্যাণে নিবেদিত এক মহাপ্রাণ দেশপ্রেমিক। দেশের ক্রান্তিলগ্নে দায়িত্ব নিয়ে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ জিয়ার স্মৃতি মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাঁর উন্নয়ন দর্শন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।”