২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর আওয়ামী লীগের এই প্রধান কার্যালয়টিতে ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা। এরপর থেকে এই ভবনটি যেমন পরিত্যক্ত, ঠিক তেমনি দীর্ঘদিন নীরব ছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতি। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজপথে আবার নিজেদের উপস্থিতি জানা নেয়ার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। এবং সাম্প্রতিক সময়ে তারা বহুগুণ সক্রিয় সামাজিক মাধ্যমে। কিন্তু এভাবে ফিরে আসা আদৌ কতটা সম্ভব?
কখনও ঝটিকা মিছিল, কখনও সামাজিক মাধ্যমে ঔদ্ধত্যপূর্ণ পোস্ট-কমেন্টস। ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে গণহত্যার দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এমন কর্মকাণ্ড ভাবাচ্ছে সরকার ও রাজনীতিবিদদের।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, অনেক লোক যোগাড় করার যে সুযোগটা পেল কী করে? ভাই, আমরা ১৫-২০ জন নিয়ে দাঁড়াতে পারেনি এক জায়গায়। সঙ্গে সঙ্গে ডিবি চলে এসেছে ওখানে। তো তারা এতক্ষণ ধরে এত লোক অর্গানাইজ করল, তো এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টের পেল না। একটুও টের পেল না। একটা ঢিলেঢালাভাব কোথায় যেন কাজ করছে।
বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তী এবং বর্তমান সরকারসহ নানা মহলের দায় দেখছে জামায়াত ও এনসিপি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সবচেয়ে বড় দায়ী মনে করি এক্ষেত্রে। সব রাজনৈতিক দলকে সেইম পেজে আনতে না পারা এবং সেই আনতে না পারাটার যে অক্ষমতা সেটা মানুষের কাছে ওপেন না করাটা এবং এখানে চতুরতা তৈরি করা এটার দায় অবশ্যই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যে ফ্যাসিবাদকে জনগণ রক্ত দিয়ে বিদায় করল, ভেতরে ভেতরে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তাদের সঙ্গে একটা সফট কর্নার তৈরি করে আদালত থেকে জামিন, ওখানে সুযোগ, ওখানে আসা, ওখানে মিটিং, ওখানে মিছিল এখানে ঢুকতে দেয়া নানানভাবে- কি বলা যাবে, ইনক্লুসিভ আওয়ামী লীগের পলিসি যেটা আওয়ামী লীগ যেটা চায় তার ইচ্ছাই তো তারা পূরণ করতে চাইছে। তারা ভুলে গেছে জুলাইয়ের ভয়ঙ্কর দিনগুলো। সেটা মনে রাখলে বিএনপির পক্ষে এইভাবে আওয়ামী-তোষণ সম্ভব না।
তবে রাজনীতিকরা বলছেন, জুলাইয়ের গণহত্যায় অভিযুক্ত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীদের প্রতিহত করবে জনগণ।
সামান্তা শারমিন বলেন, অপোজিশন হোক মানে সরকারি দল হোক এবং পার্লামেন্টে নাই এমন দলও; আমি দেখতে পাচ্ছি যে আওয়ামী লীগের প্রশ্নে তাদের সিমিলার অবস্থান আছে। তবে যদি অপোজিশন এবং গভর্মেন্টের কালেক্টিভ এফর্ট না দেখা যায় তাহলে সেখানে ওই দুর্বলতাগুলো কাজে লাগাবে আওয়ামী লীগ।
রিজভী বলেন, বিএনপিসহ এসব রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণ ছিল। তারা কমপক্ষে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। এবার যদি কোনোভাবে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ঘটে, তাহলে এবার আর বাংলাদেশের স্বাধীনতাই থাকবে না।
ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।