চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর—নগরসংলগ্ন এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতির জন্য পরিচিত। সাধারণ সময়ে বাইরের কেউ প্রবেশ করলে বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়; এমনকি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অতীতে সেখানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। তবে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্য সময়ের মতো কোনো বাধা ছাড়াই এলাকায় প্রবেশ করা গেছে। বায়েজিদ বোস্তামী থেকে ভাটিয়ারি লিংক রোড হয়ে আধা কিলোমিটার উত্তরে এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রিত।
ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নারী ও পুরুষের আলাদা সারি দেখা যায়। আনোয়ারা বেগম জানান, সকাল আটটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু ভিড়ের কারণে দেরি হচ্ছে। আরেক ভোটার রোকিয়া বেগম বলেন, আগে কিছুটা ভয় থাকলেও কেন্দ্রে এসে স্বাভাবিক পরিবেশ পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত প্রতিনিধি এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবেন।
বৃদ্ধ রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন এবং উচ্ছেদ হলে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানান। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ সাঈদ জানান, মোট ৭ হাজার ১১৬ ভোটারের মধ্যে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১ হাজার ১১৬টি। নিরাপত্তা জোরদার থাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীতাকুণ্ড থানার এসআই ইদ্রিস আলী বলেন, দীর্ঘদিন পর এলাকার মানুষ উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে পারছেন এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়, এলাকায় এখন সন্ত্রাসী তৎপরতা নেই।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি র্যাবের অভিযানের সময় হামলায় এক কর্মকর্তা নিহত হন এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। নব্বইয়ের দশক থেকে খাস জমি দখল করে এখানে বসতি গড়ে ওঠে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত অভিযানের কথা জানালেও তা এখনো শুরু হয়নি। র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।