পুরো রমজান মাস সরকারি ও বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা এবং কলেজ বন্ধ থাকবে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো রমজানের অর্ধেকেরও বেশি সময় পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্ধেকের বেশি রোজা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্তে শিক্ষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কলেজে পুরো রমজান ছুটি দেওয়া হলেও শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখা হয়েছে। গত বছর পুরো মাসই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। রোজা রেখে সারাদিন ক্লাস নেওয়া কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে তিনি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
গত ৫ জানুয়ারি এক আইনজীবী সরকারকে পুরো রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য আইনি নোটিশ দেন। নোটিশে বলা হয়, দেশের অধিকাংশ জনগণ মুসলমান এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রথা চালু রয়েছে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ ও ১৫২(১) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সারাদিন স্কুলে যাতায়াত ও ক্লাস করতে গিয়ে রোজা পালনে কষ্ট হতে পারে, যা ধর্মীয় চর্চায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি রমজানে স্কুল খোলা থাকলে শহরাঞ্চলে যানজট বাড়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০ জানুয়ারি হাইকোর্টে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি বলে জানানো হয়।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগের বছরের তুলনায় ১২ দিন ছুটি কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১ রমজান পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে।
অন্যদিকে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও ছুটি ১২ দিন কমানো হয়েছে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যদিও আদালতের নির্দেশনার পর মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজানে বন্ধ থাকবে।
সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজে মোট ৭২ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পুরো রমজান মাসই বন্ধ থাকবে। ইতোমধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাদরাসাগুলোতেও রমজানের ছুটি শুরু হয়েছে।