প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি খুলনা ওয়াসা। আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প শেষ হলেও এখনও প্রায় ৪০ ভাগ গ্রাহকের ঘরে পৌঁছেনি ওয়াসার পানি। অনেকেই উপায় না দেখে ঝুঁকছেন ভূগর্ভস্থ পানির দিকে। এরই মধ্যে পানির দাম বৃদ্ধিতে ভোগান্তির মাত্রা আরো বেড়েছে নগরবাসীর।
প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস দেশের প্রাচীনতম শহর খুলনা মহানগরীতে। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর প্রতিদিন পানির চাহিদা ২৪ কোটি লিটার।
এই বিপুল চাহিদা মেটাতে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা এলাকায় তৈরি হয় আধুনিক শোধনাগার। খোদ শহরের মধ্যেই এখনও অনেক জায়গাতেই পৌঁছতে পারেনি খুলনা ওয়াসা। এত আয়োজনের পরেও চাহিদা মেটেনি অসংখ্য মানুষের।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা, শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও শুষ্ক মৌসুমে অনেক এলাকাতেই নলকূপ ও সরবরাহ লাইনে লবণাক্ত পানি ওঠে, ফলে পানযোগ্য পানি পাওয়া যায় না।
তবে সরবরাহ না বাড়লেও বেড়েছে পানির দাম, যা ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে গ্রাহকের। গ্রীষ্ম মৌসুমে কমপক্ষে দুই মাস থাকে পানির লবনাক্ততা। এত টাকা ব্যয়ের পরেও পানি নিয়ে নগরবাসীর ভোগান্তি না কমায় উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ।

এ ব্যাপারে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, খুলনাবাসীর পানির চাহিদা পূরর্ণের চেষ্টা করছেন তারা। নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
পানির চাহিদা মেটাতে প্রায় ২৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে আবারও নেয়া হেয়েছে মেগা প্রকল্প-২। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কেটে যাবে খুলনাবাসীর পানির সংকট।