বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, হত্যাযজ্ঞ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমেই টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল উত্তেজনা ও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের সংঘাত মানবিক বিপর্যয়কে তীব্র করে তোলে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে।
তিনি বলেন, “যে কোনো যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিকার হয় সাধারণ মানুষ—শিশু, নারী ও নিরীহ নাগরিক। তাদের জীবন, ঘরবাড়ি ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যায়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধ বন্ধ করা এখনই সময়ের দাবি।”

বিশ্ববাজার ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বড় ধাক্কা
মোহাম্মদ সোহাগ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্য বা বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্থির হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “আমরা ইতোমধ্যে ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব দেখেছি। সেই সংঘাত বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে। নতুন করে বৃহৎ আকারের যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব সামাল দেওয়া আরও কঠিন হবে।”
আলোচনার টেবিলেই টেকসই সমাধান
বিবৃতিতে তিনি বিশ্বনেতা ও প্রভাবশালী শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় শক্তি প্রদর্শনের বদলে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সক্রিয় মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ সমাধানই মানবতার কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।
তার ভাষায়, “বিশ্বের মোড়লদের উচিত ক্ষমতার লড়াই নয়, মানবতার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে হবে।”
শান্তির পক্ষে ব্যবসায়ী সমাজ
একজন ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে তিনি বলেন, যুদ্ধ ও অস্থিরতা শুধু মানবিক নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথও রুদ্ধ করে। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা থাকলেই বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ে—যা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক।
শেষে তিনি বিশ্ববাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানান, “শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিকতার পক্ষে সবাইকে একত্র হতে হবে। যুদ্ধ থামুক, সংলাপ শুরু হোক—এটাই আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।”