দশম দিনে পৌঁছেছে পশ্চিম এশিয়ার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক সংঘাত। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ কখন থামানো হবে তা তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরামর্শ করে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন।
টাইমস অব ইসরায়েলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্ত কিছুটা যৌথ হবে। আমাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। আমি সঠিক সময়ে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।” তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল এবং তার আশপাশের সব কিছু ধ্বংস করতে যাচ্ছিল ইরান। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। আমরা এমন একটি দেশকে ধ্বংস করছি যারা ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।”
সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায় ইরানে। ওই হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এরপর পুরো পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং ইরান তাদের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন মার্কিন মিত্র দেশের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ কবে থামবে তা কেবল আন্তর্জাতিক পরামর্শের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। তিনি আগেও মন্তব্য করেছেন যে, সংঘর্ষ চার সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত চলতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার বা পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চালাতে হতে পারে। প্রয়োজনে আমেরিকা আরও দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।”

এদিকে, সোমবারই মোজতবা খামেনি-কে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তার নাম ঘোষণার আগেই ট্রাম্প তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, হোয়াইট হাউস না-চাইলে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। এই মন্তব্য ইরানের প্রতি কড়া নীতি বজায় রাখার সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, সংঘর্ষের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্পের বক্তব্যে পরিস্কার হয়েছে যে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং স্থগিতকরণের সিদ্ধান্ত কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ কৌশলের ওপর নির্ভর করবে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার