পবিত্র মাহে রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। এই মহিমান্বিত মাসে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন এবং ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ করে দেন। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও রমজানের পবিত্র পরিবেশে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে আধ্যাত্মিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাপ্তাহিক বয়ান ও দোয়া মাহফিল।

বৃহস্পতিবার নিয়মিত বয়ান পেশকালে দারুল ইস্ক হোসাইনিয়া খানকা শরীফ–এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং মীম শরৎ গ্রুপ–এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসীম দয়া ও মেহেরবানিতে প্রতি সপ্তাহের মতো এই জুমার রজনীতে আমাদের সবাইকে একত্রিত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। আমরা সবাই আল্লাহর বান্দা হিসেবে তাঁর দরবারে হাজির হয়েছি এবং আল্লাহর ভালোবাসা ও রাসূলের ভালোবাসার টানে এখানে সমবেত হয়েছি। এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি এবং সবাই বলি—আমিন।

আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, যারা আল্লাহকে ভালোবাসেন, যারা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসেন, তারা সবাই নবীর প্রেমে এবং আল্লাহর প্রেমের টানে
দারুল ইস্ক হোসাইনিয়া খানকা শরীফে এসে একত্রিত হন। এই মিলন শুধু একটি সমাবেশ নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বয়ানে তিনি আরও বলেন, দেখতে দেখতে আমরা রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে পৌঁছেছি। রহমতের ১০ দিন, মাগফিরাতের ১০ দিন অতিক্রম করে আমরা এখন নাজাতের ১০ দিনের মধ্যে অবস্থান করছি। আজ ২২শে রমজান শেষ হলো। এই পবিত্র মাসে আমরা সবাই চেষ্টা করেছি বেশি, বেশি করে ইবাদত-বন্দেগি করতে, কুরআন তিলাওয়াত করতে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বিভিন্ন আমল করতে।
তিনি বলেন, এই রমজান মাসে আমরা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করেছি, একই সাথে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি।
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে, তাই আমরা সবাই দোয়া করি আল্লাহ যেন সারা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ দান করেন।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, আল্লাহ তায়ালার অশেষ কুদরতের একটি নিদর্শন হলো—রমজান মাসে তিনি এমন আবহাওয়া দান করেন যাতে রোজাদারদের কষ্ট কম হয়। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি এতটাই দয়ালু যে তিনি সবসময় তাদের জন্য সহজতা সৃষ্টি করেন। আমরা সবাই যেন বাকি রমজানের দিনগুলোতেও নিয়মিত রোজা রাখার এবং বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক পাই—এই দোয়া করি। এজন্য সবাই বলি—আমিন।
তিনি আরও বলেন, রমজান শুধু রোজা রাখার মাস নয়, এটি দান-সদকা ও মানবতার সেবার মাস। সমাজে অনেক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ রয়েছেন যারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন। তাই যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সে অনুযায়ী অসহায় মানুষদের সাহায্য করা উচিত। যেন সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে এবং কেউ যেন অভাবের কারণে কষ্টে না থাকে।
বয়ানে তিনি বলেন, আমাদের পৃথিবী থেকে যারা বিদায় নিয়েছেন—আমাদের মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রিয়জন—তাদের জন্যও আমাদের দোয়া করা উচিত। আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেন, কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
শেষে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, রমজানের শিক্ষা যেন আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়। আমরা যেন সত্য, ন্যায়, মানবতা ও ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারি। একই সাথে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সবাইকে নিয়মিত দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।
বয়ান শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা একসাথে মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে আমিন বলেন এবং রমজানের বাকি দিনগুলোতে আরও বেশি ইবাদত-বন্দেগি করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।