অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে। এজন্য তারা সমাজকে আর স্বাভাবিকভাবে দেখে না। আসুন স্বচ্ছ কাঁচ দিয়ে দেখি। শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিশনের (কেআইবি) থ্রিডি হলে এগ্রিকালিচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি সরকারের প্রতি আরও আহবান জানিয়ে বলেন, চলমান সংকট জ্বালানি মোকাবেলায় স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ও অগ্রাধিকার দিয়ে বাফার স্টক গড়ে তুলুন। মিনিমাম ৬০ থেকে ৯০ দিনের মজুত আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে। সিন্ডিকেড ভেঙ্গে দিয়ে অল্টারনেট এনার্জি জেনারেশনের কাজটাকে শর্ট, মিডটার্ম এবং লংটার্ম স্ট্রাটেজি নিয়ে প্রতিষ্ঠা করুন। তাহলে জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে আপনাদের স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এটা যেন ভুলে না যাই। সমাজে যার যেটুকু পাওনা দিতে হবে। দেশ-জাতির জন্য পাওনা পরিশোধ করতে পারলে হাশরের ময়দানে আল্লাহ হিসাব সহজ করে দেবেন। প্রত্যেকটা মানুষ যদি আল্লাহর ভয়ে তার দায়িত্ব পালন করে, তাহলে বাংলাদেশ মুক্তি পেয়ে যাবে।

এএফবি সভাপতি অধ্যাপক ড. এটিএম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান।
শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সমাজকে এনার্জি যোগায়। জ্বালানী ছাড়া সমাজ চলে না। আল্লাহ অনেক সম্পদ দিয়েছেন। আমরা সেগুলো তুলে আনতে পারছি না। স্বাধীন দেশ হলেও কিছু করার আগে ডানে-বামে ১০ বার তাকাতে হয়। এটা কি স্বাধীন দেশ। অথচ মুখে শ্লোগানা দেওয়া হয় যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই শ্লোগানের বাস্তবতাতো দেখাতে হবে। আমরা যাতে আমাদের সম্পদ নিজেরাই তুলতে পারি সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। ‘বাপেক্সকে’ ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের যেটুকু স্কিল আছে সেটুকুও ব্যবহার করতে পারছি না।

তিনি বলেন, এখন দুনিয়ার উন্নত দেশগুলো লিকুইড এনার্জি সোর্স থেকে বের হয়ে আসছে। আমাদের দেশে কেন হবে না? ঘুরে ফিরে সেই সিন্ডিকেড। সবগুলো সিন্ডিকেড রুলিং পার্টিকে ঘিরে।
জামায়াত আমির বলেন, এনার্জির জন্য এখন হাহাকার। সংসদে যখন মন্ত্রীর এমপিরা কথা বলেন, মনে হয় তেলের ওপর দেশ ভাসছে। তারা বলেন- যুদ্ধের পর নাকি চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। তেলের জন্য পাম্পে ব্যাপক লাইন। মানুষ সময় নষ্ট করে বাড়তি তেল নেবে কেন? আবার চোরাই তেল পাওয়া যায়। এরা কারা? খুটির জোর আছে বলেই এগুলো হচ্ছে। তেলে ভেজাল মেশানোরও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, একটা সমাজ চলতে হলে তিনটা বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। আমাদের দেশ কৃষি নির্ভর। দ্বিতীয়ত শিল্প, আর এই দুইটার ওপর মান সম্মত সেবা নিতে হলে তৃতীয় শিল্প হলো মানবসম্পদ। আমাদের এই তিনটার অবস্থাই খারাপ। রিসার্চে যতটুকু বরাদ্দ হয় তারও যথাযথ ব্যবহার হয় না। খাদ্য উপাদান কতটুকু ব্যবহার করতে পারি। চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা হলেও তা ফাঁকা বুলি। সব কিছুই আমাদের আমদানি করতে হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষক সেচ পাম্পের জন্য জ্বালানির নিতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে দৌঁড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এতে ধান উৎপাদন ব্যহত হবে। এখন যুদ্ধ থামলেও কয়েকমাস তার প্রভাব পড়বে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু? গোজামিল দিয়ে সব কিছু চলছে।
তিনি বলেন, সংসদে গত সরকারের কিছু অধ্যাদেশ ছিল, যা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা বাতিল করা হয়েছে। এর কারণ-দেশ চলবে আগেরকায়দায়। তাহলে এত জীবন দিয়ে কি হলো? আমরা এ রকম একটা দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের জাগতে হবে। দেশের জন্য আমাদের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।