1. admin@jtv.news : admin :
  2. fansporosh@gmail.com : Raja Saleh : Raja Saleh
‘আগামী দুই মাস’ জ্বালানির ঘাটতি হবে না, অভয় দিল মন্ত্রণালয় - JTV
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাবতলী হাটে সন্তোষজনক পরিবেশ, নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি: মীর শাহে আলম র‌্যাবের ওপর সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান চুক্তির সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে যুক্ত করলেন ট্রাম্প লাব্বাইক লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাত ময়দান তীব্র গরম ও বজ্রঝড়ের শঙ্কা, হুমকিতে ২০২৬ বিশ্বকাপ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাকের চাপ, বাড়ছে যানজট ও ভোগান্তি আজ পবিত্র হজ কমলাপুর রেল স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়, পাঁচ ট্রেন বিলম্বে যাত্রী ভোগান্তি শিবগঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহায়তা ও মেধাবীদের সংবর্ধনায় প্রতিমন্ত্রী কর্মস্থল থেকে বেরিয়েও ঈদে বাড়ি ফেরা হয় না সবার বিতর্কের মুখে ট্রাম্পের নাগরিক তালিকা, গড়াল আদালতে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্দেশ ‘বিদ্রোহী’ কবির জন্মদিন উদ্‌যাপন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘আগামী দুই মাস’ জ্বালানির ঘাটতি হবে না, অভয় দিল মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৫ বার পঠিত

মন্ত্রণালয় বলছে, ক্রুড অয়েলের অভাবে শোধনাগার পুরোদমে চালাতে না পারলেও এর কোনো প্রভাব এখনই পড়বে না, কারণ দেশে পরিশোধিত তেলের ‘পর্যাপ্ত’ মজুদ আছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২ মাসে জ্বালানি তেলের কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেছেন, দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন ডিজেল, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যাহত হলেও দেশে আগামী দুই মাসে দেশে জ্বালানির কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমাদের ইনশআল্লাহ আগামী দুই মাসে কোনো জ্বালানি সংকট নাই।”

দেশের একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) ক্রুড অয়েলের মজুদ ফুরিয়ে আসার খবরের মধ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তেল মজুদের হিসাবও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, দেশে এখন ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১ মেট্রিক টন পেট্রোল, ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুদ আছে।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “অকটেন ও পেট্রোলের যে মজুদ আছে, তাতে আমাদের ইনশআল্লাহ আগামী দুই মাসেও কোনো অসুবিধা হবে না। একই কথা এখনো আপনাদেরকে বলছি যে পর্যাপ্ত মজুদ আছে।”

তবে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির কথা অস্বীকার করেননি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

তার দাবি, জেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি ঢাকার মত তীব্র নয়। রাজধানীতে ‘মূলত আতঙ্কে’ অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণেই এই চাপ তৈরি হয়েছে।

মনির হোসেন বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারির আগে যে গাড়ি ছিল, এখনো একই গাড়ি আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে আমি যা সরবরাহ করতাম, এখনো তাই করছি। ফলে এই প্যানিক বায়িংটা কেন হচ্ছে, এ বিষয়ে আসলে আমার মনে হয় এটি গবেষণার বিষয়।”

তিনি দাবি করেন, গত বছর এই সময়ে যে পরিমাণ তেল দেওয়া হয়েছে, এখন তার চেয়ে এক লিটার তেলও কাউকে কম দেওয়া হচ্ছে না।

পাম্পভিত্তিক সরবরাহে বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি কারও কাছে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য’ থাকলে তা মন্ত্রণালয়কে দিতে বলেন।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ট্রাস্টের গতকালকের চিত্রটাই আপনাকে বলি। এখানে তো লাইন অনেক লম্বা। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে আমরা দেখেছি যে উনাদের ৫০ থেকে ৫৪ হাজার লিটার অকটেন লাগে। আমরা গতকাল উনাদেরকে খুব সম্ভবত ৮০ হাজার প্লাস লিটার সরবরাহ করেছি। এখন বাকিটা আপনারা একটু বুঝে নেবেন যে এখন আসলে একটা প্যানিকটা আছে।”

অবৈধ মজুদদারি বন্ধে সরকার কী করছে, সেই তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের ৯১৬টি অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় ৩ হাজার ৫১০টি মামলা হয়েছে, ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ সময়ে ৩ লাখ ৬৬ হাজার লিটার ডিজেল, ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার অকটেন, ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার পেট্রোল এবং চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক এক অভিযানে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েলসহ মোট ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমরা কিন্তু দুই দিকেই কাজ করছি। মজুদের টেন্ডেন্সিটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি সরবরাহ চ্যানেলটাও ঠিক রাখার চেষ্টা করছি।”

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) ক্রুড অয়েলের মজুদ ফুরিয়ে আসার যে খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইআরএল সৌদি আরবের সৌদি আরামকো থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডনক থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে তা পরিশোধন করে।

বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে দেশের বার্ষিক জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে ইআরএল। তবে পণ্যভেদে এই অবদান ভিন্ন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেলের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের প্রায় ১২ শতাংশ ইআরএল থেকে এসেছে। অকটেনের ক্ষেত্রেও অংশটি তুলনামূলক কম।

এই ব্যাখ্যা তুলে ধরে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “ইআরএল এর বিষয়টা আমাদের জ্বালানি তেলের সরবরাহ চ্যানেলে খুব প্রভাব বিস্তার করে না। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ রিফাইনড অয়েল আমাদের হাতে আছে। ইআরএল এর কাজ তো রিফাইন করা। ফলে রিফাইনড অয়েল যখন আমার হাতে আছে, ফলে ইআরএল এর বিষয়টা আমার সরবরাহ চ্যানেলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।”

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মার্চে ২ লাখ মেট্রিক টন এবং এপ্রিলে ১ লাখ মেট্রিক টন, মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আনা যায়নি।

মার্চের প্রথম চালানের ১ লাখ মেট্রিক টনের অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুডবাহী কার্গো জাহাজ এমটি নর্ডিক পলাক্স লোড সম্পন্ন করেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি। সেটি এখন রাসতানুরা বন্দরে রয়েছে।

মার্চের দ্বিতীয় ১ লাখ মেট্রিক টনের মারবান ক্রুড চালানও আসেনি। কারণ, লোডিংয়ের জন্য নির্ধারিত বন্দরটি হরমুজ প্রণালীর ভেতরে থাকায় সরবরাহকারী কোম্পানি কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।

তবে এপ্রিলে নির্ধারিত ১ লাখ মেট্রিক টনের একটি অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুডের কার্গো ২০ এপ্রিল লোডিং শেষে বিকল্প রুটে ২ বা ৩ মের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছে সরকার।

মে মাসে ১ লাখ মেট্রিক টনের একটি মারবান কার্গোর পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ১ লাখ মেট্রিক টনের অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকোকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ ছাড়া জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

মনির হোসেন বলেন, মার্চ ও এপ্রিলের নির্ধারিত চালান না আসায় এখন ইআরএল ‘লো-ফিডে’ চালু রাখা হয়েছে।

“ইআরএলে চারটা ইউনিট আছে। ওই চারটা ইউনিটের মধ্যে আপনারা জানবেন যে একেকটা ইউনিট একেকটা পণ্য উৎপাদন করে। দুটো ইউনিট এখনো পুরোদমে চালু আছে।”

অন্য দুটি ইউনিট সম্পর্কে তিনি বলেন, “দুটো লোয়ার হচ্ছে, মেনটেইনেন্সের কাজ চলে। প্রতিবছর আমাদের এক থেকে দুই মাস মেনটেইনেন্সের কাজ হয়। তো আমরা যেহেতু এখন আমাদের ক্রুডটা পাচ্ছি না, আমরা এই সময়টাকে মেনটেইনেন্সের জন্য বেছে নিয়েছি।”

এই মুহূর্তে রিফাইনারির ‘ডেড স্টক’ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন তেল ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মে মাসের শুরুতে নতুন কার্গো এসে পৌঁছালে ইআরএল আবার পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আশা করছে সরকার।

মনির হোসেন বলেন, “২০-২১ তারিখের দিকে আমাদের যে কার্গোটা স্টার্ট করবে, ওটা যখন আমাদের হোপফুলি মে মাসের দুই তারিখের মধ্যে আসবে, আমরা সাথে সাথে পূর্ণদ্যমে আবার…।”

সংবাদ সম্মেলনে শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ, ফিলিং স্টেশন থেকে ডিলার পর্যায়ে তেল সরবরাহে নজরদারি, ফুয়েল পাস প্রকল্প এবং ট্যাংক লরির ডিজিটাল মনিটরিং নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

তিনি বলেন, সাতটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ চালু হয়েছে। তাতে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার নিবন্ধন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও সাতটি স্টেশনে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে ধাপে ধাপে ঢাকার সব মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা ভাবছে সরকার।

ট্যাংক লরিতে ডিভাইস বসিয়ে রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে যুগ্মসচিব বলেন, “ট্যাংক লরিতে আমরা একটা ডিভাইস স্থাপন করব। খুব নিকট ভবিষ্যতে হয়তো আপনারা সেটা দেখতে পাবেন, যেটা আমাকে রিয়েল টাইম তথ্যটা দেবে।”

ডিলারশিপের তালিকা ও ডেটাবেইজ নিয়ে অসঙ্গতির প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন যে, সরকার এখনো সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারছে না।

মুখপাত্র বলেন, “ডিলারশিপের যে তালিকাটা, এইটা আমরা একটা ডেটাবেজ করছি। এই ডেটাবেজ করার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারব কতজন আসলে সক্রিয় আছে, কতজন নিষ্ক্রিয় আছে। এখনই আমি আপনাকে নির্দিষ্ট তথ্যটা দিতে পারছি না।”

এসপিএম প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্নে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি মুখপাত্র। তবে প্রকল্পটির বিষয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে জানান।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। জবাব এলে সেই মন্ত্রণালয় থেকেই বিস্তারিত জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবারও জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমাদের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে আমাদের ইনশআল্লাহ আগামী দুই মাসে কোন জ্বালানি সমস্যা নেই।”

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© Jeba Television  স্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬ Jeba Television ©
Theme Customized By JTV