ঢাকা-দিল্লির মধ্যে দীর্ঘ দেড় বছরের কূটনৈতিক উত্তেজনা কাটিয়ে দুই দেশই পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালু করার পথে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ক্যাটাগরির ভিসা ইস্যু শুরু করেছে। অন্যদিকে ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় ভিসা কার্যক্রমে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে দিল্লি সফরের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন, যা আলোচনার শীর্ষ অগ্রাধিকার পায়।
বর্তমানে নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা ও চেন্নাইসহ বাংলাদেশের সব ভিসা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এতে করে ভিসা প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, ভারতের পক্ষ থেকেও দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, “গত বছরের শেষ দিকে কিছু ভিসা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও পর্যায়ক্রমে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সেবার মান বাড়াতে এবং দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কূটনীতিকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন, আন্দোলন ও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ঢাকায় সহিংস ঘটনার পর উভয় দেশই সাময়িকভাবে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সীমিত করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে সেই দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন গতি পাবে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।