আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ২ কোটি ৭০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়া জোন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৬-২৭ মৌসুমে তুলা ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিবগঞ্জ, সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলার ২৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তুলাচাষীর মাঝে বিনামূল্যে হাইব্রিড তুলাবীজ, সার ও বালাইনাশক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশে তুলার উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে তুলা আমদানিতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। দেশে তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, তুলার বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। তুলা থেকে সুতা ছাড়াও পার্টিকেল বোর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পপণ্য উৎপাদন সম্ভব। ভারত ও পাকিস্তানে এ ধরনের শিল্প গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও তুলাভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

মীর শাহে আলম আরও বলেন, বর্তমানে তুলা আমদানি করে সুতা উৎপাদন করতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে স্থানীয়ভাবে তুলার উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েই দেশে আধুনিক তৈরি পোশাকশিল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। তাঁর গৃহীত রপ্তানিমুখী শিল্পনীতি, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার তুলা চাষে প্রণোদনা প্রদানের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।
অনুষ্ঠানে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল আমিন, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল হাসান সুজা, রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক জাফর আলী, বগুড়া জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।