বিশেষ প্রতিবেদনঃ
বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বিডব্লিউটিসি এর কার্যক্রম নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা বিভাগের মালিকদের বৃন্দের দ্বিধা ভক্তির কারণে অসহায় সাধারণ জাহাজ মালিকরা। পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশে লাইটার জাহাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বর্তমান বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ জানান,বিদেশ থেকে যেসকল আমদানি করা হয়, যে সমস্ত খাদ্য পণ্য থেকে শুরু করে ফ্লাই অ্যাশ থেকে শুরু করে গম, সয়াবিন ডাবলি, ডাইল যা কিছু আছে পণ্য পরিবহনে সবচাইতে সহজলভ্য পথ রুট হচ্ছিল নৌপথ। নৌপথে অনেক কম খরচে পণ্য পরিবহন করা যায়। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত যে সমস্ত মাদার ভেসেল বিদেশ থেকে আসে, সেইসকল মাদার ভেসেল লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জসহ বরিশাল এবং বিশেষ করে খুলনাতে নৌপথে খুব অল্প খরচে পণ্য পরিবহন করা যায়। অত্যন্ত সুন্দর এবং ভালো একটা ব্যবসা ছিল। আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ আরো বলেন,
ব্যাংকের ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছে। সংসারে পড়েছে টানা পরন। ঠিকমতো সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়া জাহাজের শ্রমিকদের মজুরি ও দিতে পারছে না। জাহাজ শিল্পের উন্নয়নের জন্য ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। চট্টগ্রাম এবং ঢাকার ঐক্যমতে জাহাজ শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব।
নাম না বলতে ইচ্ছুক চট্টগ্রামের এক জাহাজ ব্যবসায়ী জানান, এই ব্যবসাটির মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব স্থাপন করতে গিয়ে সাধারণ জাহাজ মালিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানুষকে বিভিন্নভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে যাতে মানুষ ভয় পায়। এবং যার কারণে আজকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি শিল্প যা কিনা তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ মত। সেই জাহাজ শিল্পের আজ করুণ দুর্দশা।
খুলনার একজন জাহাজ মালিক জানান, মনে করা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই আগস্ট আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর অন্তর্ভুক্তিনকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই সেক্টরে ব্যাপক সংস্কার হবে, কিন্তু সংস্কারের মধ্যে এতোটুকু হয়েছে আগে বিডব্লিউটিসি ছিল, এখন বিবি ডব্লিউটিসি হয়েছে।
এখানে পণ্য পরিবহনে জাহাজ মালিকরা ভাড়া পায় না। ইমপোর্টাররা বলে যে পেমেন্ট পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ এখান থেকে পণ্যের লোকাল এজেন্টরা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে তারা বিভিন্ন রকমের মালিকদের সাথে সঠিকভাবে পেমেন্ট পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করেন না বিধায় জাহাজ মালিকদের ইমপোর্টারদের সাথে যোগাযোগের কোন সুযোগ নাই। ইমপোর্টারদের সাথে জাহাজ মালিকদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ নাই। কারণ এখানে পণ্যের পরিবহন লোকাল এজেন্ট এবং পণ্যের এজেন্টরা এই দুইটা এজেন্টের কাজ হচ্ছে ইমপোর্টারদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে পণ্য পরিবহন করা। এবং প্রেমেন্ট নিশ্চিত করা। এই ক্ষেত্রে মালিকরা ইমপোর্টারদের সাথে যোগাযোগ করার কোন ব্যবস্থা নেই। সেই প্রেক্ষিতে অনেক সাধারন জাহাজ মালিক যারা ইমপোর্টারদের রোশানলে শিকার হয়। যেসব অসহায় জাহাজ মালিক আছে তাদের জাহাজ দেখে, দেখে গুদাম বানিয়ে রাখে। একটি জাহাজে ৫-৬ মাস ট্রিপ হয় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ট্রিপ না থাকার কারণে বিপদ্মুখী হতে হয়।
নারায়ণগঞ্জের একজন সাধারণ জাহাজ মালিক জানান, নানা সংকটে নিয়ে বর্তমানে জাহাজ শিল্পে বিলীন হয়ে যাবার সংখ্যা তৈরি হয়েছে এবং এই সংখ্যা থেকে সাধারণ জাহাজ মালিকরা অসহায় অবস্থায় আছে সুতরাং তাদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য দরকার শক্তিশালী একটি আন্দোলন। এটাই সাধারণ জাহাজ মালিকরা মনে করেন। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার সাথে সমন্বয় করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সিদ্ধান্তে আশা প্রয়োজন বলে মনে করেন।