দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে তাঁর সঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ অবস্থানের কথা জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। সাক্ষাতে টিআইবির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতি এবং তা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের নীতি হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাতের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার ও পুনর্গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সুশাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী বিষয়ে সরকারপ্রধানকে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন এবং বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বজুড়ে বার্তা দিতে চায় যে- তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন ও অঙ্গীকারবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে ২০২৮ সালের আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী কনফারেন্স বাংলাদেশে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে টিআইবি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, প্রতি দুই বছর পর পর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছর এ সম্মেলন ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে আয়োজন করা হবে। এর আগে এশিয়ায় মাত্র তিনটি দেশ-মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া এ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৮ সালের সম্মেলন বাংলাদেশে আয়োজনের উপযুক্ত সময়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদের সম্মতি পাওয়া গেলে বাংলাদেশে এ সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াক্্ফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ওয়াক্ফের প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সকালে এ সাক্ষাৎকারটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা ওয়াক্ফসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
হাওড়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওড় অঞ্চলে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানায়। হাওড় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এ তালিকার ভিত্তিতেই আগামী তিন মাস কৃষককে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।’
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে কৃষক যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সেজন্য ধান রোপণ ও সংগ্রহের মৌসুম কিছুটা এগিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, হাওড়াঞ্চলে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে চিহ্নিত করে সরকারের পক্ষ থেকে তিন মাস সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া হাওড়াঞ্চলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ড. ওসমান ফারুক, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, কামরুজ্জামান কামরুল, নুরুল ইসলাম, কলিম উদ্দিন মিলন ও মোহাম্মদ কয়সর আহমদ সভায় অংশ নেন।
-বিশেষ প্রতিনিধি